আমার সহজ সরল মা, গ্রামের পরিবেশেই যার
জীবনের শুরু এবং শেষ।
এমন কিছু বিষয় যার কোনো ভিত্তি নেই, তাও তারা এমন ভাবে বিশ্বাস করতো যে, যেন তা না মানলে ঈমান থাকবেনা।
তো যা নিয়ে বলছিলাম …প্রতি শুক্রবার দুই মায়াবী চোখে সুরমা লাগানো আমার মায়ের নিয়মিত আমল ছিল। ছোট বেলা থেকেই এই নিয়ম দেখে আসছিলাম, কিছুটা বিরক্তির সাথে। কারণ আমরা ছিলাম আধুনিক শিক্ষিত। শুক্রবার আসলেই মা যেমন যত্ন ও ভক্তির সাথে নিজে সুরমা লাগাতেন, তেমনি আমাদেরকেও লাগাতে বলতেন। না লাগালে মনে হতো যেন মহা অপরাধ করে ফেলেছি। এখন এসব শুধুই স্মৃতি। মা কেও দেখিনা,মায়ের সুরমা লাগানোও দেখিনা। সম্ভবত মায়ের মৃত্যুর ৬মাস আগের কথা, একদিন শুক্রবারে মা সুরমা লাগাচ্ছেন আর আমাকেও লাগাতে বলছেন। মা কয়েকবারই বললেন। কঠিন ভাবে নয়,বরং অনুরোধের সুরে!
আমিও তখন আর ছোট নেই। তিন সন্তানের মা। আমারও লাগানোর ইচ্ছে ছিল। এবার আর বিরক্তি নয়,কিছুটা অলসতার কারণেই লাগানো হলোনা। মা মনে কষ্ট পেলেন, হয়তোবা ভাবলেন, আমার মেয়ে ধর্ম - কর্ম ছেড়ে দিয়েছে! বলেও ফেললেন
"তোরা শুক্রবারেও একটু সুরমা লাগাসনা,তোদের যে কি হলো!"
এখন আমি আছি। আছে সুরমাদানিও।
শুক্রবারও আসে প্রতি সপ্তাহে,এবং আমি মাকে ভেবে যত্নের সঙ্গে সুরমা লাগাই।
যা দেখার জন্য আজ আমার মা আমার কাছে নেই।
আহহ! যদি মা আজ বেঁচে থাকতেন!!!
অবশ্যই মাকে খুশী করার জন্য মায়ের সামনে আমি সুরমা লাগাতাম।
যে সন্তানরা মায়ের ছোট ছোট অনুভূতি গুলোর মূল্যায়ন করে,,,, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তিময় জীবন - যাপন করে।
আর আমার মতো অবাধ্যদের জীবন কাটে শুধুই আহ্ ও আফসোসে...!
যাক,,তবু আমার প্রিয় মা বেঁচে থাকুক আমার চোখের সুরমায়...................
No comments:
Post a Comment